Thursday, December 26, 2019

মনে পড়া

সেদিন তোমার জ্বর। ইস্কুল যাও নি। আমি ইস্কুল থেকে ফিরে এই ধর দুপুর ৩টা নাগাদ একটা B-Zone এর মিনিবাস নিয়ে তোমাদের Newton Avenue এর কোয়ার্টারে হাজির। পেছনের দরজাটা খোলাই ছিল, হয়ত কাজের মাসি আসবে বলে। তুমি ঘুমোচ্ছিলে। জ্বরে মুখটা প্রায় গোলাপী। ঠোঁট এখনকার মতই একটু অসহায়, তবু যৌবনের জৌলুস ঝিলিক মারছে এক একবার। আমি ইস্কুলে বাঁধা বেণীদুটি খুলিনি, আর ফ্রকটা মায়ের বানানো। পেঁয়াজি রঙের, তাতে ছোট বেগুনি বুটি। সেদিন খুব লোভ হয়েছিল তোমায় জাগিয়ে দিই। কিন্তু সংকোচে তা করা হয় নি। তাই একখানা চিঠি লিখে তোমার ইস্কুল ব্যাগে রেখে এসেছিলাম, পেয়েছিলে? 

প্রেমের এক গভীর আস্বাদ সেদিন ষোড়শী স্বপ্নগুলোকে রাঙিয়ে তুলেছিল, 
আষাঢ়ের মেঘে বুঝি যৌবনের বান উঠেছিল 
- শুনেছি সবারই এমন হয়: উন্মত্ত মন, চূর্ণ কুন্তল... আর রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক অজানা স্পন্দন। 
কল্পনায় সেদিন হাতড়ে বেরিয়েছিলাম এক স্বপ্নিল অবয়বের।
"তোকে যে বড় ভালোবাসি".. সেদিনও বলেছিলে। ঘুমিয়ে, ঘুমিয়ে, অস্ফুটে। সেই আনন্দেই ফ্রক দুলিয়ে, পা টিপে টিপে পালিয়ে এসেছিলাম সেদিন।
তারপরে ICSE র রেজাল্টের সময় হাল্কা দেখা। বুলেট পয়েন্টে কথা সেদিন। "কত পয়েন্ট?" ব্যাস। চাউনি, পলক, শরম, সবই বুঝেও না বোঝার ভান।
তারপরে বিধান.. হঠাৎ বড় হয়ে যাবার পালা। ইস্কুল মানে আর ইউনিফর্ম নয়, রঙ্গীন সালোয়ার। BNG বলেছেন ওড়না নিতে, নিতাম। তোমাদেরও সব হাল্কা গোঁফ দাঁড়ির রেখা। আর JEE IIT র deadline মার্কা মরণ দৌড়। আবার দেখলাম একদিন, বিধান থেকে ফিরতি পথে, তোমরা জটলা বেঁধে গেটের সামনে। তাকিয়েছিলে বোধহয় একবার, কিন্তু আমরা তখন মাথা নিচু করে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার দল। তখন 'তুমি' শুনলে কান রাঙা হয়। তখন বিধানের বাস স্ট্যান্ডে সবার সাথে দাঁড়িয়ে থেকেও কত প্রণয় বিনিময় হয়।
আর তখন চিত্রালয়ার মাঠে, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হঠাৎ মনে পড়ে: এই, বাড়ি যাবে না। হুঁ। 
অনেক কিছুই হয়ত বলতে/ ব্যক্ত করতে পারি না তোমার মত করে.. আজ মেঘলা আকাশ ছেঁড়া ছেঁড়া বরফ, শিরশির করে ঠাণ্ডা লাগছে; আজ আবার একটা উষ্ণ মনের কথা মনে পড়লো তাই।
ধরা ধরা গলায় ঘুম চোখে বলবে আমি তোকে খুব কষ্ট দিই, না রে মনাই? পেঁয়াজি ফ্রকটার থেকে একটু ঝাঁঝ আসে, আজ অনেক কাল পরেও। টপ টপ করে ভালোবাসা ঝরে পড়ে, আর ভিজিয়ে দেয় তোমাকে-আমাকে-আমাদের।

No comments:

Post a Comment